প্রতি মঙ্গলবার চক্ষু, দন্ত, মেডিসিন, গাইনি, চর্ম, হাড়, ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরামর্শ ফ্রি !! ৫০% ছাড়ে অনলাইন হেলথ্কেয়ার প্যাকেজ ! এপয়েন্টমেন্ট : 01887045555
Open

23/C, (3rd floor), Zigatola, Dhaka-1209

Hotline: +880 1887045555

কার্ডিওলজিস্ট এর কাজ কি? কখন কার্ডিওলজিস্ট ডাক্তার দেখাবেন ? কার্ডিওলজি রোগের লক্ষণসমূহ ।

কার্ডিওলজিস্ট এর কাজ কি? কখন কার্ডিওলজিস্ট ডাক্তার দেখাবেন ? কার্ডিওলজিস্ট রোগের লক্ষণসমূহ ।

আমরা অনেকেই বুঝে উঠতে পারিনা কখন আমাদের কোন ডাক্তার এর প্রয়োজন ।  আজকে আমরা আলোচনা করব কার্ডিওলজিস্ট এর কাজ কি? কখন কার্ডিওলজিস্ট ডাক্তার দেখাবেন ? কার্ডিওলজি রোগের লক্ষণসমূহ । এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ডাক্তার নির্বাচন করতে পারবেন ।

কার্ডিওলজি কি ?

যেসব রোগীর কার্ডিওভ্যাস্কুলার (হার্ট সম্পর্কিত) সমস্যা বা রোগ আছে, তাদের চিকিৎসায় কার্ডিওলজিস্ট বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এর ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ন ।

কার্ডিওলজিস্ট কি ?

কার্ডিওলজি চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বিভাগ যা মুখ্যরূপে হৃদয় এবং সংবহন তন্ত্রের চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা জন্ম থেকে হৃদয় দোষ, হার্ট ফেল, ভালভুলার হৃদয় রোগ ইত্যাদির চিকিৎসায় ধ্যান কেন্দ্রিত করে থাকেন। কার্ডিওলজির বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে কার্ডিওলজিস্ট বলা হয়।

জেনে নিন কার্ডিওলজি রোগের লক্ষণসমূহ 

হৃদরোগের লক্ষণসমূহ :

০. বুকে বা বাহুতে ব্যথা হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ। তবে শুধু বুকে ব্যথা হলেই হৃদরোগ বলা যায় না। বাহু, চোয়ালের পিছন দিক এবং গলায় চিনচিনে ব্যথা হতে পারে।

০. অনেক সময় অনেকে বলে থাকেন বুকে জ্বালাপোড়া করার কথা। এমনটা হলে সাবধান হোন। কেননা এটিও হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।

০. বদহজম, বমিবমি ভাব, অনিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস হৃদরোগের উপসর্গ হতে পারে।

০. হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ঘনঘন শ্বাস-প্রশ্বাস ওঠানামা করে। অনেক সময় রোগী ঘামতে থাকে। এমনটা প্রবল শীতেও হতে পারে।

০. হৃদরোগ সবসময় হঠাৎ করে হবে এমনটা নয়। অনেক সময় হৃদরোগ ধীরে ধীরে মানুষের হৃদযন্ত্রকে ব্লক করে দেয়। এ ধরনের হৃদরোগকে ‘মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন’ বা হার্ট অ্যাটাক বলে। এ ক্ষেত্রে প্রবল অস্বস্তিকর অনুভ‚তি অন্যতম লক্ষণ।

হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় :

০. যদি কেউ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন তাহলে প্রথমেই জরুরি বিভাগে ডাক্তার দেখাতে হবে। কারণ অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া কোনো চিকিৎসা করতে গেলে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়তে পারে।

০. হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন।

০. হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বাতাস চলাচলের রাস্তাগুলো সব উম্মুক্ত করে দিন। এটি রোগীকে গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সহায়তা করবে।

০. হার্ট অ্যাটাকের পর যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করুন।

০. হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ষা পাবেন।

০. হার্ট অ্যাটাকের পর হৃৎপিণ্ডে রক্তের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বাজারে প্রচলিত ৩০০ মি.গ্রা. ডিসপ্রিন (অ্যাসপিরিন), ৩০০ মি.গ্রা. ক্লোপিডোগ্রেল (Clopidogrel), ৪০ মি.গ্রা. অ্যার্টভাস্টাটিন (Atova) এবং ৪০ মি.গ্রা. ওমিপ্রাজল খাইয়ে দ্রুত হৃদরোগ হাসপাতালে পৌঁছে দিন। সেখানে কার্ডিওলজিস্ট দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনে জরুরি অ্যান্জিওপ্লাস্টি (urgent PTCA ) সহ অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রতিকার : হৃদরোগ থেকে বাঁচতে হলে  এর প্রতিকার সম্পর্কে জানা জরুরি, এবার জেনে নিন, কী করে হৃদরোগের প্রতিকার করা সম্ভব বা তা থেকে বাঁচার উপায়।

০. হৃদরোগের শত্রু হচ্ছে ধূমপান। তাই ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

০. ধূমপানের মতো মাদকও হৃদরোগের আরেকটি কারণ, তাই মাদককে না বলুন।

০. অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না। নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। ভালো থাকবেন।

০. মাঝে মাঝে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।

০. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করে নিজেকে সুস্থ রাখুন।

০. প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খান।

সতর্কতা

একটা সময় হৃদরোগকে সাধারণত বয়স্ক মানুষের রোগ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু আজকাল প্রায় সব বয়সী মানুষই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই হৃদরোগের লক্ষণসমূহ এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আমাদের সবারই জেনে রাখা উচিত।

গবেষণায় দেখা যায়, পারিবারিক ইতিহাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই হৃদরোগের ক্ষেত্রে প্রধান ও নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণেই মানুষ আজকাল হৃদরোগে আক্রান্ত হন বেশি। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত ওজন। বর্তমানে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ধরন হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই পরিস্থিতি প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কয়েকটি পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ জেনে নেওয়া ভালো। যার মাধ্যমে হৃদরোগের  প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে আগেভাগেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যায়।

ঢাকার সেরা ১০ কার্ডিওলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

বাংলাদেশের সেরা শিশু কার্ডিওলজিস্ট ডাক্তার

 কার্ডিওলজিস্ট কি ধরনের রোগ নিয়ে কাজ করেঃ

কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে আপনাকে সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে –

১। হৃদযন্ত্রে ও এর আশেপাশে সমস্যা এবং ব্যথা থাকলে সমস্যা ও ব্যথার কারণ নির্ণয় করা।

২। হৃদরোগের প্রতিকার দেওয়া।

৩। উচ্চরক্তচাপ সমস্যার নির্ণয় ও সমাধান দিতে হয়।

৪। কনজেনিটাল বা জন্মগত হৃদযন্ত্রের সমস্যা হলে তা নির্ণয় করতে হয়।

৫। বুকের ব্যথা সাধারণত বিভিন্ন কারণে হতে পারে। নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের সমস্যার কারণে যেমন বুকে ব্যথা হতে পারে তেমনি গ্যাস বা পাকস্থলিতে সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে বুকের ব্যথার কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করে সে অনুযায়ী পরামর্শ দিতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে। যদি হৃদযন্ত্রের কোন সমস্যা না হয় সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সমস্যার কথা উল্লেখ করে রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিতে হবে আপনাকে।

৬। বুকের ব্যথার ধরন – ক্রাশিং (অর্থাৎ বুকে চাপ অনুভব করা) এবং স্ট্যাবিং (ছুরির মত ক্ষণে ক্ষণে ব্যথা অনুভব করা)-এর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে হয় এবং সে অনুযায়ী সমস্যার সমাধান দিতে হয়।

৭। এছাড়াও সমস্যা নির্ণয় ও নিশ্চিত করতে আইপিপিএ (ইনসপেকশন, প্যালপেশন, পারকাশন ও অসকালটেশন) অবলম্বন করতে হবে যেখানে সাধারণত প্রথমে ইনসপেকশন বা সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয় রোগীকে তার সমস্যার ব্যাপারে, দ্বিতীয়ত জিজ্ঞাসাবাদের পরে সমস্যা নিয়ে আরও বুঝতে রোগীর হাত স্পর্শ করার মাধ্যমে সমস্যা বুঝতে হয় যাকে প্যালপেশন বলে। তৃতীয়ত হৃদযন্ত্রের উপরের ত্বকে বাড়ি মারার মাধ্যমে রোগের ধরন পরীক্ষা করতে হয়।এরপর স্টেথোস্কোপের মাধ্যমে শব্দ শুনে রোগের সমস্যা নির্ণয় করতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে। এক্ষেত্রে এই পর্যায়গুলো অবলম্বন করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

৮। আইপিপিএ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা নির্ণয় করা গেলেও সতর্কতার খাতিরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে হয়। ইসিজি, ইকো, অ্যাঞ্জিওগ্রাম প্রভৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যা নিশ্চিত করতে হয় কার্ডিওলজিস্টকে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করার দায়িত্ব কার্ডিওলজিস্টের উপর বর্তায় না। বরং এই পরীক্ষাগুলো টেকনিশিয়ান সম্পন্ন করার পরে কার্ডিওলজিস্ট পরীক্ষার ফলাফল দেখে সমস্যার ধরন ও প্রকৃতি নির্ণয় করেন।

৯। হৃদযন্ত্র ও শরীরে লিপিড বা চর্বির পরিমাণ ও শরীরে এর বিরূপ প্রভাবের পরিমাণ নির্ণয় করা একজন কার্ডিওলজিস্টের কাজ।

১০। নির্দিষ্ট হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ সমস্যা অনুযায়ী রোগীকে ওষুধ পরামর্শ দিতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে।

১১। যদি আপনার হৃদযন্ত্রে ব্লক বা রক্তপ্রবাহে বাধা নির্ণয় করা হয় সেক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রে স্টেন্টিং-এর কাজ সম্পন্ন করতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে। প্রচলিত বাংলা ভাষায় স্টেন্টিংকে রিং পড়ানো বলা হলেও চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায় রিং পড়ানো বলতে কিছু নেই, বরং স্টেন্টিং নামেই তা পরিচিত।

১২। যদি কেউ হৃদরোগে স্টেন্টিং না পড়িয়ে সার্জারি করানোর মাধ্যমে ব্লকের সমাধান করতে চান সেক্ষেত্রে কার্ডিওলজিস্ট তা সম্পন্ন করতে পারবেন না বরং একজন কার্ডিয়াক সার্জন তা সম্পন্ন করবেন। তবে রোগ ও সমস্যা নির্ণয়ের কাজ একজন কার্ডিওলজিস্টকেই সম্পন্ন করতে হয়। কার্ডিয়াক সার্জন শুধুমাত্র সার্জারি ও অপারেশনের কাজ সম্পন্ন করেন।

১৩। বিভিন্ন হৃদরোগের প্রতিকার হিসেবে রোগীকে যথাযথ পরামর্শ দিতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে। যেমন – ভারী কাজ করবেন না, ভারী জিনিস বহন করবেন, কাজের চাপ কম নিবেন প্রভৃতি।

 একজন কার্ডিওলজিস্ট কোথায় কাজ করেন?

সরকারি পর্যায়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতাল পর্যন্ত সব ধরনের হাসপাতালেই একজন কার্ডিওলজিস্ট কাজ করতে পারেন। সরকারি এবং বেসরকারি – দুই ধরনের হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানেই কার্ডিওলজিস্ট নিযুক্ত থাকেন। এটি চিকিৎসাশাস্ত্রের বিশেষায়িত একটি অংশ হওয়ায় বেশ অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাশাস্ত্রের বিশেষায়িত ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে একজন কার্ডিওলজিস্টের কর্মক্ষেত্র হতে পারে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে –

১। যে কোন সরকারি ও জাতীয় হাসপাতাল।

২। হৃদরোগের সমস্যার জন্য বিশেষায়িত বেসরকারি অথবা স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল বা ইন্সটিটিউট ও প্রতিষ্ঠান। যেমন – মহাখালীতে অবস্থিত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, মিলিনিয়াম হার্ট অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড, ল্যাবেইড কার্ডিয়াক হসপিটাল, ইবরাহীম কার্ডিয়াক হসপিটাল প্রভৃতি।

৩। যে কোন মেডিকেল কলেজ (সরকারি ও বেসরকারি উভয়)।

৪। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট।

৫। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

একজন কার্ডিওলজিস্ট কী ধরনের কাজ করেন?

কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে আপনাকে সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে –

১। হৃদযন্ত্রে ও এর আশেপাশে সমস্যা এবং ব্যথা থাকলে সমস্যা ও ব্যথার কারণ নির্ণয় করা।

২। হৃদরোগের প্রতিকার দেওয়া।

৩। উচ্চরক্তচাপ সমস্যার নির্ণয় ও সমাধান দিতে হয়।

৪। কনজেনিটাল বা জন্মগত হৃদযন্ত্রের সমস্যা হলে তা নির্ণয় করতে হয়।

৫। বুকের ব্যথা সাধারণত বিভিন্ন কারণে হতে পারে। নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের সমস্যার কারণে যেমন বুকে ব্যথা হতে পারে তেমনি গ্যাস বা পাকস্থলিতে সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে বুকের ব্যথার কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করে সে অনুযায়ী পরামর্শ দিতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে। যদি হৃদযন্ত্রের কোন সমস্যা না হয় সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সমস্যার কথা উল্লেখ করে রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিতে হবে আপনাকে।

৬। বুকের ব্যথার ধরন – ক্রাশিং (অর্থাৎ বুকে চাপ অনুভব করা) এবং স্ট্যাবিং (ছুরির মত ক্ষণে ক্ষণে ব্যথা অনুভব করা)-এর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে হয় এবং সে অনুযায়ী সমস্যার সমাধান দিতে হয়।

৭। এছাড়াও সমস্যা নির্ণয় ও নিশ্চিত করতে আইপিপিএ (ইনসপেকশন, প্যালপেশন, পারকাশন ও অসকালটেশন) অবলম্বন করতে হবে যেখানে সাধারণত প্রথমে ইনসপেকশন বা সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয় রোগীকে তার সমস্যার ব্যাপারে, দ্বিতীয়ত জিজ্ঞাসাবাদের পরে সমস্যা নিয়ে আরও বুঝতে রোগীর হাত স্পর্শ করার মাধ্যমে সমস্যা বুঝতে হয় যাকে প্যালপেশন বলে। তৃতীয়ত হৃদযন্ত্রের উপরের ত্বকে বাড়ি মারার মাধ্যমে রোগের ধরন পরীক্ষা করতে হয়।এরপর স্টেথোস্কোপের মাধ্যমে শব্দ শুনে রোগের সমস্যা নির্ণয় করতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে। এক্ষেত্রে এই পর্যায়গুলো অবলম্বন করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

৮। আইপিপিএ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা নির্ণয় করা গেলেও সতর্কতার খাতিরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে হয়। ইসিজি, ইকো, অ্যাঞ্জিওগ্রাম প্রভৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যা নিশ্চিত করতে হয় কার্ডিওলজিস্টকে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করার দায়িত্ব কার্ডিওলজিস্টের উপর বর্তায় না। বরং এই পরীক্ষাগুলো টেকনিশিয়ান সম্পন্ন করার পরে কার্ডিওলজিস্ট পরীক্ষার ফলাফল দেখে সমস্যার ধরন ও প্রকৃতি নির্ণয় করেন।

৯। হৃদযন্ত্র ও শরীরে লিপিড বা চর্বির পরিমাণ ও শরীরে এর বিরূপ প্রভাবের পরিমাণ নির্ণয় করা একজন কার্ডিওলজিস্টের কাজ।

১০। নির্দিষ্ট হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ সমস্যা অনুযায়ী রোগীকে ওষুধ পরামর্শ দিতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে।

১১। যদি আপনার হৃদযন্ত্রে ব্লক বা রক্তপ্রবাহে বাধা নির্ণয় করা হয় সেক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রে স্টেন্টিং-এর কাজ সম্পন্ন করতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে। প্রচলিত বাংলা ভাষায় স্টেন্টিংকে রিং পড়ানো বলা হলেও চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায় রিং পড়ানো বলতে কিছু নেই, বরং স্টেন্টিং নামেই তা পরিচিত।

১২। যদি কেউ হৃদরোগে স্টেন্টিং না পড়িয়ে সার্জারি করানোর মাধ্যমে ব্লকের সমাধান করতে চান সেক্ষেত্রে কার্ডিওলজিস্ট তা সম্পন্ন করতে পারবেন না বরং একজন কার্ডিয়াক সার্জন তা সম্পন্ন করবেন। তবে রোগ ও সমস্যা নির্ণয়ের কাজ একজন কার্ডিওলজিস্টকেই সম্পন্ন করতে হয়। কার্ডিয়াক সার্জন শুধুমাত্র সার্জারি ও অপারেশনের কাজ সম্পন্ন করেন।

১৩। বিভিন্ন হৃদরোগের প্রতিকার হিসেবে রোগীকে যথাযথ পরামর্শ দিতে হয় একজন কার্ডিওলজিস্টকে। যেমন – ভারী কাজ করবেন না, ভারী জিনিস বহন করবেন, কাজের চাপ কম নিবেন প্রভৃতি।

একজন কার্ডিওলজিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শুধুমাত্র এমবিবিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত হলেই কার্ডিওলজিস্ট হওয়া যায় না। বরং কার্ডিওলজি বিষয়ের উপর বিশেষায়িত ডিগ্রি থাকলেই কেবলমাত্র আপনি কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে কার্ডিওলজি বিষয়ে এমডি, এফসিপিএস, এমসিপিএস অথবা ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকলে আপনি কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। এ ধরনের এমবিবিএস পরবর্তী কোন ডিগ্রি ছাড়া কার্ডিওলজি বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করা যায় না বিধায় এরকম কোন ডিগ্রি ছাড়া কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে কোথাও নিয়োগ পাওয়া যায় না। নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত পূর্ব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের মত এখানেও অভিজ্ঞতা থাকলে প্রার্থীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

একজন কার্ডিওলজিস্টের কী ধরনের দক্ষতা জ্ঞান থাকতে হয়?

১। নিয়োগের পরবর্তী জীবনে ক্যারিয়ার উন্নয়নের জন্য অভিজ্ঞতা চিকিৎসাশাস্ত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্ষেত্রে যত বেশি সম্ভব সরাসরি অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আহরণ করা জরুরি।

২। কনজেনিটাল ও স্ট্রাকচারাল (জন্মগত ও কাঠামোগত) এবং অন্যান্য ধরনের হৃদরোগ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।

৩। উচ্চরক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারি ওষুধ নিয়ে যথাযথ ধারণা থাকতে হবে।

৪। ইকো, ইসিজি, অ্যাঞ্জিওগ্রাম, লিপিড টেস্ট প্রভৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে ভালোমত জানতে হবে এবং রিপোর্ট বোঝার মত যথাযথ জ্ঞান থাকতে হয়।

৫। স্টেন্টিং-এর কাজ বেশ স্পর্শকাতর এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় খুব দক্ষ ও পারদর্শী না হলে স্টেন্টিং সম্পন্ন করার দায়িত্ব কোন কার্ডিওলজিস্ট বহন করতে চান না। সেক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষতা না থাকলে স্টেন্টিং সম্পন্ন করার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

৬। হৃদযন্ত্রের ধরন নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।

একজন কার্ডিওলজিস্টের মাসিক আয় কেমন?

আপনি যদি একজন কার্ডিওলজিস্ট হন সেক্ষেত্রে বেসরকারি খাতে মাসিক সম্মানীর পরিমাণ বাংলাদেশে বেশ ভালো। বেসরকারি ক্ষেত্রে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে শুরুর দিকে আপনার মাসিক সম্মানী শুরু হবে ৮৫০০০ টাকা থেকে। সময় ও অভিজ্ঞতার সাথে আপনার মাসিক আয় বেড়ে দুই লাখ টাকা কিংবা তার অধিকও হতে পারে। তবে বিষয়টি কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ।

সরকারি কর্মক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী নির্দিষ্ট করা থাকবে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী। এক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী শুরু হবে ৬ষ্ঠ স্কেল বা ৪৩০০০ টাকা থেকে। আপনি আলাদাভাবে নিজের চেম্বারে রোগী দেখার ব্যবস্থা রাখলে সেক্ষেত্রে আপনার মাসিক আয় আরও বেশি হবে। তবে ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে আয়ের বিষয়টি আপনার খ্যাতি ও নামের প্রসারের উপর নির্ভরশীল।

একজন কার্ডিওলজিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

যে কোন হাসপাতালের ক্ষেত্রে একজন কার্ডিওলজিস্টের ক্যারিয়ারের পদবিন্যাস সাধারণত নিম্নলিখিত পদগুলো অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এগোয় –

১। জুনিয়র কনসালট্যান্ট

২। সিনিয়র কনসালট্যান্ট

এক্ষেত্রে নিয়োগের পরে আপনার প্রথম পদ হবে জুনিয়র কনসালট্যান্ট। সাধারণত অল্প অভিজ্ঞতা আছে এবং অন্তত একটি ব্যাচেলর পরবর্তী ডিগ্রি আছে এমন ব্যক্তিদেরকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। কিছু সময় অভিজ্ঞতা লাভের পরে এবং নতুন কোন উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি লাভের মাধ্যমে আপনি সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের হাসপাতালের জন্যই তা প্রযোজ্য।

মেডিকেল কলেজ, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কিংবা যে কোন জায়গায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে আপনার পদবিন্যাস সহকারী অধ্যাপক থেকে শুরু হয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ অধ্যাপক পর্যন্ত যেতে পারে। নিয়মিত পড়াশোনা করা ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া একজন কার্ডিওলজিস্টের জন্য জরুরী।

কোথায় পড়বেন কার্ডিওলজি?

এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পরে বাংলাদেশে বিসিপিএস (বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস) থেকে কার্ডিওলজি বিষয়ের উপর এফসিপিএস ডিগ্রি লাভ করা সম্ভব। এছাড়া কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কার্ডিওলজি বিষয়ের উপর এই গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী ডিগ্রিগুলো, যেমন – ডিপ্লোমা, এমডি প্রভৃতি দেওয়া হয়ে থাকে। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট কিংবা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকেও আপনি কার্ডিওলজি বিষয়ে ডিগ্রি নিতে পারেন।

কার্ডিওলজিস্ট সাধারণত কি ধরণের টেস্ট দেনঃ

Electrocardiogram (ECG or EKG) …

Chest X-rays. …

Echocardiogram. …

Cardiac Catheterization and Angiogram. …

Magnetic Resonance Imaging (MRI) …

CT (Computerized Tomography) of the Heart. …

Transesophageal Echocardiogram (TEE) …

Holter Monitor.

ফরচুন হেলথকেয়ার যা ধানমন্ডিতে অবস্থিত । আপনাকে দিচ্ছে সকল কার্ডিওলজি রোগের চিকিৎসা বা টেস্ট এর উপর ৩০-৫০ % ডিসকাউন্ট ।

আশা করি আজকের বিষয়টির মাধ্যমে আপনি আপনার রোগের লক্ষন অনুযায়ী সঠিক ডাক্তার নির্বাচন করতে পারবেন । প্রথমে দেখুন নিউরো রোগের লক্ষণসমূহ আপনার সাথে মিলে যাচ্ছে কিনা । তারপর একজন স্পেশালিস্ট কার্ডিওলজিস্ট  ডাক্তার নির্বাচন করুন এবং কার্ডিও রোগের চিকিৎসা নিন । ভালো ও সুস্থ থাকুন ।

এছাড়াও কার্ডিওলজি সম্পর্কিত যেকোন প্রশ্ন যেমন :কার্ডিওলজি কি বাংলা, কার্ডিওলজি অর্থ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অর্থ, কার্ডিওলজিস্ট অর্থ, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ, কার্ডিওলজি ডাক্তার সিলেট, কার্ডিওলজি কোন রোগের সাথে সম্পৃক্ত, কার্ডিওলজি বিভাগ ।

বা সেবার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :

Fortune Diagnostic centre

Phone: +880 1887045555

Address: 23/C, Zigatola 3rd floor Dhaka, 1209, Bangladesh

Opening Hours: Everyday: 8 A.M. – 11 P.M.

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these <abbr title="HyperText Markup Language">HTML</abbr> tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*

Hi, How Can We Help You?
0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop
    Need Help? Chat with us